ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন বোর্ড অব গভর্নরস গঠন, পদাধিকার বলে রয়েছেন ইবি ভাইস চ্যান্সেলর
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ইফা) নতুন বোর্ড অব গভর্নরস গঠন করা হয়েছে। দেশের কওমি অঙ্গন, আলেম সমাজ এবং ধর্মীয় ও ইসলামি শিক্ষাক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নতুন বোর্ডে তিনজন আলেমকে গভর্নর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৮৩-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংস্থা-১ শাখা থেকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদাধিকারবলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে পদাধিকারবলে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে এম. মতিনুর রহমান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকার মনোনীত দুই সংসদ সদস্যকেও নতুন বোর্ডে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। নতুন বোর্ডে দেশের প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মীয় তাত্ত্বিকদের মধ্য থেকে পাঁচজন আলেমকে গভর্নর হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নতুন করে বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন। নতুন মনোনীত তিন আলেম হলেন—জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকার মুহতামিম মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী; মারকাজুল হুদা আল-ইসলামী বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম এবং নূরে মদিনা আল-আরাবিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও যাত্রাবাড়ীর বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব এবং সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ।
এ ছাড়া পূর্ববর্তী বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী নতুন বোর্ডেও গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পদাধিকারবলে নিযুক্ত গভর্নর ছাড়া অন্যান্য গভর্নরদের মেয়াদ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের স্থলে সরকার নতুন গভর্নর মনোনয়ন না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় পদাধিকারবলে নিযুক্ত গভর্নর ছাড়া অন্য কোনো গভর্নর বা গভর্নরদের পরিবর্তন করতে কিংবা তাঁদের পদ শূন্য ঘোষণা করতে পারবে।
নতুন বোর্ড অব গভর্নরসের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর, সমন্বিত ও গতিশীলভাবে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।
***
তথ্য প্রকাশনাও জনসংযোগ অফিস
Edited By: Dr. Amanur Aman