ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য রক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান ইবি উপাচার্যের
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ, জাতীয় ঐক্য রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। ‘২৪ জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন কেবল বাংলাদেশেই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় এক অনুকরণীয় আন্দোলন হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তাই কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষে এই আন্দোলনের একক দাবিদার হওয়া সমীচীন নয়। আন্দোলনকে ঘিরে বিভাজন তৈরি হলে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের শঙ্কা থেকে যায় বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যৌক্তিক দাবি ও আবেদন প্রশাসন বিবেচনা করবে, তবে দাবির অজুহাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। তিনি জুলাই বিপ্লবে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীন ফোরাম-এর আয়োজনে ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের গগণ হরকরা গ্যালারিতে বেলা ১১ টায় আলোচনা সভাটি শুরু হয়। সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ এমতাজ হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ এমতাজ হোসেন জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, “পহেলা জুলাই যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম শিক্ষক হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলাম। তবে দুঃখের বিষয়, বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে কোনো জুলাই যোদ্ধা আমাকে সামান্য শুভেচ্ছা পর্যন্ত জানায়নি। শুধু একজন শিক্ষার্থী আমাকে উইশ করেছে। শুনতে খারাপ লাগলেও এটিই বাস্তবতা।” আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে যুক্ত করতে। জুলাই বিপ্লবের অনেক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে বড় একটি দাবি ছিল নির্বিঘ্নে ও নিরপেক্ষভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা অন্তত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করি।”
অনুষ্ঠানে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানূর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আলীনূর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট সহ জুলাই যোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ রাজিবুল ইসলাম
উপ-পরিচালক
তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
কুষ্টিয়া-৭০০৩