ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জব কর্নার উদ্বোধন/ ক্যারিয়ার গঠনে দক্ষতা ও মনোযোগ বৃদ্ধির আহ্বান ভাইস চ্যান্সেলরের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চাকরি ও ক্যারিয়ারসংক্রান্ত প্রস্তুতিতে সহায়তার লক্ষ্যে ‘জব কর্নার’ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জব কর্নারটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে দক্ষতা ও এফিশিয়েন্সি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জব কর্নার স্থাপনের বিষয়টি প্রশাসন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল বডিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের উদ্যোগে জব কর্নারের সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। ইবি কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজামের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক খোন্দকার আব্দুল মজিদ। এছাড়াও ছাত্রদল ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ ও চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, জব কর্নারকে আরও বড় ও সুনির্দিষ্ট পরিসরে সম্প্রসারণ এবং ইন্টারনেটের গতি ও সুবিধা বৃদ্ধি—এ দুটি দাবি প্রশাসনের কাছে যৌক্তিক। এগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত জব কর্নারের পরিসর আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং ইন্টারনেট সুবিধার ঘাটতিও দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় ইতিবাচক সহযোগিতা করবে। নিজেদের দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। ভালো কোনো উদ্যোগের সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্পণ্য থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিসিএসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, ৪৪তম বিসিএস থেকে ৫০তম বিসিএস পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাফল্য কামনা করেছিলেন তিনি। তবে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত না হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ ও আফসোসের। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা যেখানে ভালো করছে, সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আশানুরূপ নয়। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গৌরবময় অতীত রয়েছে। একসময় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এ ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ ঘাটতির কারণগুলো চিহ্নিত করে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় তার পুরোনো গৌরবময় অবস্থানে ফিরে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, ক্যারিয়ার গঠনে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করলেই হবে না; শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের সময় ও জীবনযাপনকে সুশৃঙ্খল করতে হবে। মনোযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের আরও যোগ্য করে তুলতে হবে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের রাত জাগার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। সম্প্রতি একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী রাত ২টা পর্যন্ত জেগে থাকে। ক্যারিয়ার গঠন বা পড়াশোনার প্রয়োজনে কেউ রাত জাগলে বিষয়টি ভিন্ন; কিন্তু অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় রাত জাগা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শিক্ষার্থীদের নিজেদের সময় ব্যবস্থাপনা ও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লাইব্রেরি রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবির বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে লাইব্রেরির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করবে। তবে লাইব্রেরির শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও এর মূল উদ্দেশ্য যেন বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীরাও তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে আরও মনোযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
******
তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস