সমাবর্তনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সকল কমিটিকে নির্দেশনা উপাচার্যের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫ম সমাবর্তন সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গঠিত বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। একই সঙ্গে কমিটিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। ১৩ অক্টোবর উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব নির্দেশনা দেন উপাচার্য। সভায় আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানানো হয়। এই সমাবর্তন ২০২৭ সালের ২ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে একটি মূল কমিটির অধীনে মোট ২২ টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় উপাচার্য বলেন,ডিসেম্বরের যেকোনো সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী অবস্থায় পৌঁছানোই এখন মূল লক্ষ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কমিটিকে নিজ নিজ দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি। উপাচার্য কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, কোনো সদস্য যদি মনে করেন যে তিনি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যথাযথ সময় দিতে পারবেন না, তাহলে বিষয়টি আগেই কমিটির আহ্বায়ককে জানাতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সদস্যের পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিতে প্রত্যেকের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা থাকবে। ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সমন্বয়হীনতার সুযোগ রাখা যাবে না।” সমাবর্তনের বিভিন্ন উপ-কমিটির কার্যক্রমের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, আবাসিক, পরিবহন, উপহারসহ বিভিন্ন কমিটিকে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কমিটির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে আবাসিক কমিটির সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রকৌশল অফিস, পরিবহন ও স্টেট শাখার সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি। নিরাপত্তা ও ভিআইপি ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনে অতিথি, ভিআইপি ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যথাযথভাবে গ্রহণ ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগেই প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের দিন নিরাপত্তা ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পাস ও অনুমোদন যথাসময়ে নিশ্চিত করার কথাও সভায় উঠে আসে। সভায় সমাবর্তনে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির পক্ষ থেকে প্রাথমিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ হাজারের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা ব্যক্ত করা হয়। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা নিবন্ধন ও রিসেপশন কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়। এ সময় বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনো কমিটিতে কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হলে আহ্বায়কদের লিখিতভাবে সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উপাচার্য জানান।
সভায় কমিটিগুলোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে উপাচার্য বলেন, প্রত্যেক কমিটিকে নিজ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অন্য কমিটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করতে হবে। এতে একই কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতি আরও সহজ ও কার্যকর হবে। সভায় সমাবর্তনের বাজেট পুনর্বিন্যাস করে দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পূর্ববর্তী সমাবর্তনের সার্টিফিকেটের নকশা ও কাঠামোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সহজতর করার বিষয়টি উঠে আসে। উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনের মতো বড় আয়োজন সফল করতে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তাই কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সভায় কমিটির দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা হয়। বয়স ও অন্যান্য দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে কিছু দায়িত্বে পরিবর্তন আনার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, কাজের চাপ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার ( ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমানসহ আসন্ন সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা। সভায় সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতি, বাজেট, অতিথি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, আবাসিক সুবিধা, পরিবহন, উপহার, স্পনসরশিপ, প্রকৌশল ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে একটি সুশৃঙ্খল, মর্যাদাপূর্ণ ও সফল সমাবর্তন আয়োজন করাই সভার মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়।
****
তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস
তারেক মাহমুদ হোসেন
Edited By: Dr. Amanur Aman