ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের রজতজয়ন্তী ও রি-ইউনিয়ন
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ (১০ জানুয়ারি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর রি-ইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই আয়োজন ছিল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান। এছাড়া বিভাগের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, “মানুষের শিক্ষাজীবনের শেষ ধাপ হলো বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকেই জীবনের প্রকৃত রূপান্তর শুরু হয়। এই রূপান্তরকে যারা সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন, তারাই জীবনের সর্বোচ্চ সফলতার শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেমন পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে, তেমনি এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, আইসিটি বিভাগ ইতোমধ্যেই সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। অনুষ্ঠানটি আইসিটি বিভাগের দীর্ঘ পথচলা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে স্মরণ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী বলেন, রজতজয়ন্তী শুধু একটি সময়কাল পূর্তির স্মারক নয়, এটি একটি বিভাগের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রতিফলন। ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগ শুরু থেকেই গুণগত শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।” তিনি আরও বলেন, “চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে আইসিটি শিক্ষার্থীরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে। উদ্ভাবন, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে শিক্ষা ও গবেষণার মান। আইসিটি বিভাগ সেই মানোন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।” তিনি বলেন, এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরির বাজারে নয়, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। ভবিষ্যতেও এই বিভাগের একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো: আলমগীর হোসেন। সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পুরো আয়োজনকে সুচারুভাবে পরিচালনা করেন, যা অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম আশেক রায়হান মাহমুদ প্রমুখ।
=====
তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযাগ অফিস
Edited By: Dr. Amanur Aman