ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশে গড়ে উঠবে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার নতুন সংস্কৃতি --- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বলেছেন দেশে একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যা নতুন এক সংস্কৃতির সূচনা করবে—যেখানে খেলাধুলাই হবে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার অন্যতম মাধ্যম। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৫ বছরে যে বিভাজনমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখা গেছে, সেখানে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার ঘাটতি ছিল। ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে সেই মূল্যবোধগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আজ, ৪ মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় “অ্যাথলেটিক্স (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটিক্স মাঠে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগীতা চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করছে।
তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী এ সময় বর্তমান সরকারের স্বল্প সময়ের মধ্যেই গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা, তাদের উৎসাহিত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” নামের একটি বৃহৎ কর্মসূচি ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং সেখান থেকে নতুন প্রজন্মের মেধাবী খেলোয়াড় তৈরি করা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসংখ্য প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশব্যাপী খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি খেলাধুলায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তার মতে, এতে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ক্রীড়া অফিসের মাধ্যমে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবেন।
তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই খেলাধুলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আজকের এই টুর্নামেন্ট সেই অগ্রযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি তার সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথিকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিরূপ আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আসছে। বিভিন্ন ইভেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া খাতে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই যে ইতিবাচক পদক্ষেপ ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে বাংলাদেশ ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
ভাইস চ্যান্সেলর এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ আব্দুল মজিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী বলেন খেলাধুলা সোহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই খেলাধুলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আজকের এই টুর্নামেন্ট সেই অগ্রযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে এ প্রতিযোগীতা আয়োজনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগীতা প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন, কর্মকর্তা সংগঠন, কর্মচারী সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের শত শত নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
এছাড়াও কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে এবং সার্বিক আয়োজনকে দেয় এক ভিন্নমাত্রার ব্যাপকতা ও গাম্ভীর্য।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং শরীরচর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মাবিলা রহমান।
======
তারেক মাহমুদ হোসেন
উপ রেজিস্ট্রার
ছবি: শেখ আবু সিদ্দিক রোকন
উপ-রেজিস্ট্রার (ফটোগ্রাফি)
তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস
Edited By : Dr. Amanur Aman